Politics

৫৩ তম জন্মদিনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা।
Photo

জোট রাজনীতির নতুন পুরাতন সমীকরণ 

যে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি' এবং 'মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরােধী দক্ষিণ এশীয় গণসঘিলন এক গােলটেলি

ন আর। শালটেবিল বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত জামাতুল মুজাহিদনের জঙ্গি কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান। - না আলােচনা করা। এই বৈঠকে আওয়ামী নাগ, কমিউনিস্ট পাটি, ওয়াকার্স পার্টি, জাসদ, গণফোরাম নাগ লue or শীষমানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী যমের নামে রাজনীতি করে তাদের মতবিরােধীদের 'নাস্তিক' ও ভারতের দালাল' বলে অভিহিত করে। তাদের

লমারের জবাব দিতে ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে একাত্তরের

কােন নির্মল কমিটি এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরােধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গােলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন,

| কারা প্রকৃত মুসলমান, কারা নয়- এটা নির্ণয়ের দায়িত্ব কোন রাজনৈতিক দল, সরকার বা রাষ্ট্র নিতে পারে না। পবিত্র কোরানও তা

অনুমােদন করে না। অথচ অামায়াতীরা পাকিস্তানের জানালা থেকেই এ ধরনের ইসলাম বিরােধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে ।... এই | মৌলবাদীদের প্রতিহত করতে না পারলে দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।।

জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমর্থকরা অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ মন্তব্য করতে থাকে । দেশীয় নেতাদের পাশাপাশি পাকিস্তানিরাও বাংলাদেশ সম্পর্কে কটুক্তি করেন। ১৯৯৮ সালের ১৯ জুলাই একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক সভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সিনেটর আকরাম জাকির কটুক্তি এবং জামায়াতে ইসলামীর সভায় বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে বিষােদগারের তীব্র নিন্দা জানানাে হয়। সভায় বক্তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরােধী অপরাধীদের বিচার দাবি করেন।

পরাধী

ঘৃণা

গণহত্যার স্থান, গণকবর, নির্যাতন কেন্দ্র চিহ্নিত করা। যুদ্ধাপরাধী বিচার আন্দোলনের সাথে সাথে সারা দেশে অসংখ্য গণহত্যার স্থান, গণকবর, নির্যাতন কেন্দ্র চিহ্নিত করার জন্য নির্মূল কমিটি দাবি জানায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদরদের হাতে প্রথম শহিদ ডা. হুমায়ন কবির ও ডা. আজহাররুল হক স্মরণে নির্মূল কমিটি নটরডেম কলেজের সামনে একটি ব্রণ সভার আয়ােজন করে। স্মরণ সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, সারাদেশে গণকবর চিহ্নিতকরণ, স্মৃতি ফলক স্থাপন ও মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত শত্রু ঘাতক রাজাকার আলবদরদের বিচারের দাবি জানান। কাজী মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শাহরিয়ার কবির বলেন, “শহিদদের ঋণ কখনাে শােধ করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন। হয়েছে। এ দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে । আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্যই মানবতাবিরােধী অপরাধীদের বিচার করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে কাজী মুকুল বলেন, 'একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক, দালাল, রাজাকার, আলবদরদের বিরুদ্ধে আমাদের এই সংগ্রাম নিরন্তন চালিয়ে যাবাে। আমাদের আস্থা আছে এদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি-তার একদিন ঐ জল্লাদদের বিতাড়িত করবেই এ দেশের মাটি থেকে।২৮।

ন 'এ'

|

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরােধী সম্মিলন। নির্মূল কমিটি মানবতাবিরােধী অপরাধীদের বিচার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য সম্মেলনের আয়ােজন করে। ২০০১ সালের ১-২ জুন ঢাকায় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে পাঁচ দেশীয় দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের আয়ােজন করা হয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তারা মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বার অঙ্গীকার ব্যক্ত কল্লেন। সম্মেললো এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খানের নেতৃত্বে আগত পাকিস্তানের বরেণ্য সাংবাদিক, অধ্যাপক, কবি, পেশাজীবী ও মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ একাত্তরের ঘাতক মানবতাবিরােধী অপরাধীদের বিচারের দাবির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পাকিস্তানে এই দাবির সমর্থনে জনমত সংগঠনের কথা বলেন। সম্মেলনের শেষে গৃহীত ঢাকা ঘােষণায়ও মানবতাবিরােধী অপব্রাধীদের বিচারের কথা বলা হয় এবং নির্মূল কমিটির উদ্যোগে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরােধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন' গঠিত হয় ।

‘রাজাকারমুক্ত সংসদ’ প্রতিষ্ঠার দাবি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয় লাভ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রােধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর। খুনীদের বিচার কাজও শুরু হয়। নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে মানবতাবিরােধী অপরাধীদের প্রতি মানুষের ঘৃণার বহিপ্রকাশ ঘটে। এরই ধারাবহিকতায় ‘রাজাকারমুক্ত সংসদ' প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে একটি মানববন্ধন কর্মসূছি অনুষ্ঠিত হয়। এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ২১টি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষ যােগ দেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে আসন্ন নির্বাচনে '৭১-এর ঘাতকদের ভোট না দেয়ার জন্য ভােটারদের প্রতি আকুল আবেদন জানানাে হয়। সংসদ ভবন চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে শুরু হয়ে পূর্ব-দক্ষিণ কোণ হয়ে বিজয় সরণির মােড়ে গিয়ে এই যশ বন্ধনের জনতার লাইন শেষ হয়। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে । মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে । মানবতাবিরােধী অপরাধীদের বিচার এবং রাজাকার মুক্ত সংসদ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানাে হয়।।

 

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar