World

সাহারা মরুভূমির অজানা রহস্য, যা জানলে আপনি চমকে যাবেন।
Photo

নিউজ ডেস্কঃসাহারা মরুভূমির অজানা রহস্য, যা জানলে আপনি চমকে যাবেন। সাহারা মরুভূমি কথা আমরা অনেকেই শুনেছি কিন্তু এর পেছনে থাকার রহস্য আমরা অনেকেই জানিনা। এই মরুভূমি নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে অনেক প্রশ্ন।

সাহারা হলো পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩৫ লক্ষ  বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে এই মরুভূমির অবস্থান, আফ্রিকা মহাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ। এই মরুভূমিতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাতাসে মাত্র ২%।এই মরুভূমির তাপমাত্রা ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এই মরুভূমি একদিন চিরসবুজ ছিল।

পৃথিবীর উষ্ণতম শুষ্কতম জায়গার মধ্যে সাহারা মরুভূমি অন্যতম হলেও এই মরুভূমি একসময় চিরসবুজ ছিলো।ইতিহাস থেকে জানা যায়,প্রায় ১০,০০০ বছর আগে এই স্থানটি জীবজগতের বসবাসের আদর্শ স্থান ছিল। ২০১০ সালে ভূ বিজ্ঞানীরা এই মরুভূমির নিচে এক অতিকায় প্রাগৈতিহাসিক হ্রদ এর সন্ধান পেয়েছেন।

ধারণা করা হয়, আফ্রিকার দক্ষিণ অংশ হতে প্রাচীন মানুষ ইউরোপে যেত এই মরুভূমির উপর দিয়ে। এই তথ্য উঠে আসে, জার্মানির এক গবেষক এ অঞ্চল নিয়ে চার দশক ধরে গবেষণার মধ্যে দিয়ে।এই জায়গার আয়তন প্রায় সুইজারল্যান্ড এর সমান। 

সেখানে অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে ধাক্কায় স্যান্ডস্টোন বা বেলে পাথরের ক্ষয়ের ফেলে।ছোট নদী, অসংখ্য জলধারা ভরা ও সরুখ আর এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে এই মরুভূমিতে।

এই মরুভূমি নিয়ে ভূবিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা পরিচালনা করেছেন এমনকি এখনো গবেষণা চলছে। বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমিতে এক সময় হাজার হাজার মানুষের জনবসতি ছিল। ভূবিজ্ঞানী স্টেফান ক্র‍্যোপলিন তার চল্লিশ বছর ধরে গবেষণা করছেন নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনা থেকে এই অঞ্চল ও মরুভূমির জলবায়ুর ইতিহাস নিয়ে।

বিজ্ঞানী গবেষণাগুলোর প্রস্তুতি নেন বিশ্ব বিখ্যাত কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেই।  মরুভূমিতে অভিযান চালিয়ে যা জিনিস পত্র নমুনা পান তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে গবেষণা পরিচালনা করেন। বিজ্ঞানী জানার চেষ্টা করেছেন, আফ্রিকা  থেকে কিভাবে মানুষ ইউরোপে মরুভূমির উপর দিয়ে যেত।

এই মরুভূমিতে বিজ্ঞানিক প্রায় ৬০ টিরও বেশি অভিযান পরিচালনা করে জানার চেষ্টা করেছেন এখানকার জলবায়ুর অবস্থা।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হ্রদ ছিল ঔনিয়াগা।  

অনুমান করা হয়, সাহারা অঞ্চল সবুজ আর উর্বর ছিল প্রায় চার হতে ১২ হাজার বছর আগে। এখানে আরো বড় একটি হ্রদ ছিল যা বিচ্ছিন্নভাবে বর্তমানে ছড়িয়ে আছে।

সেই যুগে জলবায়ুর রহস্য লুকিয়ে আছে হ্রদের তলদেশের মাটির মধ্যে।তাই গবেষকদল হ্রদের তলদেশের মাটির  মধ্যে থেকে অনেক নমুনা সংগ্রহ করেছেন। অতীত যুগের চিত্র ধারণ করার জন্য ড্রিলিং কোর ব্যবহার করে ধাপে ধাপে বের করা হয়।ভূ বিজ্ঞানী স্টেফান ক্র‍্যোপলিন বলেন,’সাহারা অঞ্চলের জলবায়ু ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সেরা সংগ্রহ ড্রিলিং কোর। বিজ্ঞানী বলেন,পুরো আফ্রিকার সেরা সংগ্রহ গত ১১,০০০ বছরে।এমনকি পুরো বিশ্বের তুলনায় মেলা ভার।’

ভূবিজ্ঞানী স্টেফান ক্র‍্যোপলিন অতীত যুগের জলবায়ু সম্পর্কে আরো ধারণা অর্জন করার জন্য মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর চিহ্নের খোঁজ করছেন।এই এই এলাকার মানুষের বসতি নিশ্চিত করে হাজার বছর আগে পাথরের ওপর আঁকা ছবি।

এই মরুভূমি অঞ্চল প্রাচীনকালে আদ্র, সবুজ ও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ ছিল। এই মরুভূমির বুকে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা।

এইসব তথ্য শুনে আমাদের মনে কৌতুহল জাগতেই পারে কেনো এই সুপ্রাচীন সভ্যতা মরুভূমির গভীরে হারিয়ে গেলো।

আসুন জেনে নেই কি সেই কারন।

>>হঠাৎ করে সাহারা অঞ্চলে আবহাওয়া ৮ থেকে ১০/১২ হাজার বছর আগে। এর কারণ হচ্ছে পৃথিবী সূর্য এর যে কক্ষে ঘুরে বেড়ায়, সেই আকারের পরিবর্তন। নাসার, গডার্ড ইনিস্টিউট ফর স্পেস স্টাডি-এর আবহাওয়া বিজ্ঞানী গেভিন স্কীমড-এর ধারণা করেন,পৃথিবীর কক্ষপথ আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে এমন ছিলো না।

পৃথিবীর অক্ষ ২৪.১ ডিগ্রি কোনে হেলে ছিল কক্ষপথে ভ্রমনরত। মহাজাগতিক সংঘর্ষে কক্ষপথএ গঠনগত পরিবর্তনে আসে প্রায় কয়েক হাজার বছর আগে। যার ফলে পৃথিবী হেলে যায় ২৩.৫ ডিগ্রি কোনে।

পৃথিবীর আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন,পৃথিবীর অক্ষের সামান্য কৌনিক পরিবর্তনেই  সম্ভব।আমারে বিরাট পরিবর্তনে সাহারা অঞ্চলের উপর পড়ে।যার ফলেই  সৃষ্টি হয়েছে বর্তমানের এই সাহারা মরুভূমি। আবহাওয়ার এই বিরূপ প্র’ভাব এর ফলে মাত্র কয়েকশ বছর আগে শুকিয়ে গেছে এই সাহারা অঞ্চল।সেখানে ছিলো হ্রদ, তিনটি নদী ও সবুজ সাহারা।

এই অঞ্চলে বৃষ্টি থেমে যায়, দিন দিন উতপ্ত হতে থাকে সাহারা ফলে এই অঞ্চলের মানুষ দিন দিন সেখান থেকে অনত্র চলে যায়।সাহারা অঞ্চলের মানুষ নীল নদের উপত্যকায় যেয়ে বসতি স্থাপন করে বলে ধারণা করা হয়।ধীরে ধীরে সাহারা অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হয়, আর বালুর নিচে চাপা পড়ে যায়। নীল নদের অববাহিকায় মিশরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে।

সাহারা মরুভূমিতে সভ্যতা ছিলো কিনা তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে।তবে বিজ্ঞানীরা সাহারা মরুভূমিতের ভিতরে খুঁজে পেয়েছে ২০ টি কঙ্কল।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই মরুভূমির বালু সরিয়ে নতুন নতুন রহস্যের উন্মোচন করছেন।

বিজ্ঞানীরা ভূতাত্ত্বিক নমুমা পরিক্ষা করে এই মরুভূমিতে শতকের বেশি খনন করেন।মরুভূমি থেকে পশুর হাড়,পাথরের উপর রঙ্গিন ছবি ও মানুষের আদিম যন্ত্রপাতি ইত্যাদি আবিষ্কার করেছেন। তারা সেগুলো গবেষণা করে প্রাচীন সবুজ সাহারা অঞ্চল যে ছিলো তা সবার সাথে আনার চেষ্টা করছে।
প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র আবিষ্কার করেন হেনরিখ বার্থ নামে এক জার্মান অভিযাত্রী এই অঞ্চলে পাঁচ বছর এর ওপর কাটিয়ে হাজার বছর সভ্যতা।

ভবিষ্যতে সাহারার আরো অনেক রহস্য উন্মোচন হবে বলে ধারণা করা হয়।’সাহারা রক আর্ট’ হতে এই সব নতুন নতুন রহস্য উন্মোচন হয় এমনকি ভবিষ্যতেও হবে বলে আশা রয়েছে কেননা এটি ‘ফ্রান্স কিংবা স্পেনের’ গুহাচিত্রের চেয়েও বেশি পরিষ্কার ও প্রকৃতির কোলে নিখুঁত ভাবে |

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar