Miscellineous

শিশুর সামাজিক মূল্যবোধ ।
Photo

পরিবার হলো পৃথিবীর প্রথম সমাজ ব্যবস্থা। পরিবারকে কেন্দ্র করে সমাজ গোত্র রাষ্ট্র  ইত্যাদি বির্বতনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেছে। তাই শিশুর প্রথম শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার। শিশুর মানসিক বিকাশ কেমন হবে, সামাজিক বন্ধন কি রূপ দৃষ্টিতে প্রভাবিত হবে, খেলার সঙ্গীদের সাথে কি রূপ ব্যবহার করবে,  আত্মীয় সজনদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তা শিশুর পরিবারের শিক্ষা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। সামাজিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি শিশু তার জীবন অতিবাহিত করলেও পরিবার হলো সামাজিক মূল্যবাধ ও নৈতিকতার প্রধান ভিত্তি। আমরা স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করলেও আমরা সামাজিক নীতি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ পরিবার থেকে  অর্জন করে থাকি। এছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা শিশুর সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বন্ধন দৃঢ় করে। একটি শিশু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সাঙ্গে ভালো মন্দ বিচার করার বোধশক্তি জাগ্রত হতে থাকে। তাই শিশু বেড়ে ওঠার সময় আমাদের সঠিক ও শিক্ষামূলক ব্যবহার করতে হবে। যাতে শিশুরা যথাযথ ভাবে সামাজিক বোধশক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে। আমাদের পরস্পরিক সহযোগিতা পারে শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটাতে। 

 

বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় শিশু অপরাধ মূলক কার্যসিদ্ধি হচ্ছে। কম্পিউটার ল্যাপটপ স্মার্ট ফোন ও মোবাইল ফনে অত্যধিক আসক্ত হয়ে শিশু এবং কিশোর অনলাইন অশ্লীলতা ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধ-মূলক কাজের সম্পৃক্ত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহলে গড়ে ওঠচ্ছে কিশোর গ্যাং যা কিশোরদের দ্বারা বিভিন্ন অপরাধ-মূলক অসামাজিক কাজ দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শিশুর প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বাবা- মাকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিবারের সর্তকতার অভাবে অনেক সময়  শিশু বা কিশোর অসামাজিক ও বিচ্যুতিমূলক আচরণ করে থাকে। আবার পরিবারের সদস্যরা যেভাবে শিশুদের সঙ্গে ব্যবহার করবে ঠিক যেভাবে সেই আচরণে বেড়ে উঠবে। তাই বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে আমাদের পরস্পারিক সহনশীল ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া অনেক শিশু প্রতিবন্ধীর করণে নিজকে গুটিয়ে নেই অন্যদের থেকে এবং নিজেকে অসহায় বা নিচু দৃষ্টিতে নিজের প্রতি বিচার করতে থাকে। আমাদের এইসব প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ নজরে রাখতে হবে। শিশুর মানসিক বিকাশ যেন কোন মতে ব্যাহত না হয় সে দিকে প্রতেক্ষ  পরিবারকে সবাধিক সতর্ক পন্থ অবলম্বন করতে হবে। কেননা আজকের শিশু আগামী দিনে দেশের মানব-শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। 

 

বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়ায় সাধারণত পিছিয়ে পড়া এলাকাজুড়ে অনেক শিশুদের সঠিক পরিচর্যা হয়না। প্রান্তিক এলাকার তুলনায় শহরের  সুযোগ সুবিধা বেশি থাকায় শহরের শিশুরা অনেক বেশি চারর্চিল্য প্রন্থা অনুসরণ করে। এছাড়া শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায়  এবং শহরের শিশু কিশোররা সঠিক গাইড লাইন উপযুক্ত প্রযুক্তির আলোতে গ্রাম বা প্রান্তিক এলাকার শিশুদের চেয়ে সরকারের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়াও ইংলিশ মিডিয়াম ও অন্যান্য  মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সাধারণরত গ্রামে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অন্যকোন শিক্ষা মাধ্যম নেই। তাই এমন বৈষম্য দূর করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগে আমাদের এমন সমস্যা সমাধান  করতে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া গ্রামে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য হওয়ায় বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডীদের সরকারী ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সামাজিকরণীয়ের মধ্যে দিয়ে ব্যক্তি সামাজিক নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অর্জন করে থাকে।  তবে বর্তমানে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ হ্রাস পাচ্ছে। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চ পর্যায়ের মানুষের মধ্য মূল্যবোধ লোপ পেয়েছে।  একজন ব্যক্তি তার সহপাঠী বা অন্যদের সঙ্গে কি রূপ আচরণ করবে তা মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে। স্কুল কলেজে নৈতিকতা মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়া হলেও সেখানে রন্ধে রন্ধে গলদ রয়েছে। আজ প্রশ্ন ফাঁসের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নষ্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শিক্ষক মহোদর আজ ছাত্র-ছাত্রীদের পিছনে সময় ব্যয় না করে  নেমে পড়ছে কোচিং ব্যবসায় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অথচ শিক্ষক হলো মানুষ গড়ার কারিগর। মায়ের স্তনে যে রূপ শিশুর অধিকার রয়েছে ঠিক একই রূপ শিক্ষকের ওপর ছত্র-ছাত্রীর অধিকার রয়েছে। আবার দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা মূল্যবোধ হ্রাসের ফলে দক্ষ শিক্ষার্থী গড়ে ওঠছেনা। যার ফলে দেশে ক্রমান্বয় বৃদ্ধি পাচ্ছ বেকারত্ব সমস্যা যা শিক্ষার্থীদের মাঝে জন্ম নিচ্ছে হতাশা নামক মৃত্যুর ফাঁদ।

 

উনিশ ও বিংশশতাব্দীতে  শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ দৃঢ় থাকায় এই উপমহাদেশ জ্ম্মদিয়েছিল   মহামানবদের তথা রাজা রামমোহন, ঈশ্বর চন্দ্রবিদ্যারসাগর, স্যার সৈয়দ আহমেদ খান, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম ইত্যাদি।   বিদ্যাসাগরের পায়ের চটি হতে মহাত্মা গান্ধির গায়ের চাঁদর পযর্ন্ত কিভাবে পরিধান করতেন তৎকালীন ছাত্র সমাজ তা অনুসরণ করতেন। বইপড়া, প্রবন্ধ লিখা, কবিতা পাঠ,  দেশপ্রেম, সুষ্ঠধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী ইত্যাদি বিষয়ে তৎকালিক শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বন্ধন ছিল অটুট। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তৎকালিন মাহামনবদের আদর্শ অনুসরণ না করে  বিভিন্ন মডেলদের বিভিন্ন স্টাইল ও মার্কিনী ইয়ার্কি ফেশ্যায়ন শো অনুসরণ করে থাকে। এ থেকে আজকের ছাত্র-সমাজ মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। জন্মনিচ্ছেনা মহামানব ও মহাজ্ঞানী । তাই নতুন প্রজন্মকে সঠিক ধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে সামাজিক মূল্যবোধ নৈতিকতার  চর্চার বিকল্প নেই। আমাদের প্রত্যাশা আগামী প্রজন্ম যেন নৈতিকতা মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে দৃঢ় প্রত্যয় হয়।

 

কলাম লেখক,  মো. বিপ্লব আলী 

ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar