World

যুক্তরাজ্যের দাবি চীন নির্মম ভাবে উইঘুরদের নির্যাতন করছে
Photo

রবিবার ব্রিটেন বেইজিংকে চীনের পশ্চিম জিনজিয়াং প্রদেশের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু উইঘুরদের উপর সম্পূর্ণ, গুরতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করে। মানবাধিকার সংগঠন সমূহ এবং বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কী ভাষাভাষী সংখ্যালঘুদের সমাধির ন্যায় ক্যাম্পের এক নেটওয়ার্কে আবদ্ধ করা হয়েছে।

বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব ডমিনিক র্যাব বলেছেন মুসলিম প্রদেশগুলোতে বলপূর্বক নির্বীজন ও আটক অবস্থার প্রতিবেদনগুলোর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিআকর্ষণ প্রয়োজন। তিনি বিবিসি তে বলেন, “এটি পরিষ্কার যে সেখানে সম্পূর্ণ, গুরুতর, মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে চলেছে….. এটি গভীর, গভীর সমস্যাগ্রস্থ, প্রতিবেদনগুলো এবং এর মানবিকদিকগুলো আমাদের এমন কিছু স্মরণ করিয়ে দেয় যা আমরা অনেক.. অনেক দিন ধরে প্রতক্ষ করিনি, এবং এটি করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এক নেতৃস্থানীয় সদস্যের দ্বারা যেটা গুরুতরভাবে নিতে চাচ্ছি”৷ র্যাব আরো যোগ করেন “আমরা একটি ভাল সম্পর্ক চাই (চীনের সাথে) কিন্তু আমরা সেরকম আচরণ দেখছিনা।” তার মন্তব্যগুলো আসে যখন লন্ডন ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে।

বেইজিংয়ের প্রতিশোধের হুমকি উপেক্ষা করে ব্রিটেন মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের চাপের কাছে মাথানত করে এবং চীনের টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওকে এর ৫জি নেটওয়ার্ক থেকে অপসারণ করার আদেশ প্রদাণ করে। হংকং এর উপর বেইজিংয়ের চাপিয়ে দেয়া বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন নিয়েও দুই পক্ষ ঝামেলায় জড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই মাসের শুরুতে জেষ্ঠ্য চাইনিজ কর্মকর্তাদের উপর অবরোধ আরোপ করে, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র চায় জিনজিয়াংএ উইঘুর ও তুর্কি মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন শেষ হোক। বেইজিং খুব তাড়তাড়ি পাল্টা জবাব দেয়, সর্বশেষ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়নের মাধ্যমে। র্যাব বলেন তিনি সোমবার বৃটিশ আইন প্রনয়ণকারীদেরকে বেইজিংয়ের হংকং বিষয়ক নতুন আইনের প্রতি পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করবেন। সেখানে পূর্ববর্তী কলোনির সাথে অপরাধী প্রত্যার্পন কর্মসূচী এর পর্যালোচনার ফলাফলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে রবিবার লন্ডনে চাইনিজ রাষ্ট্রদূত সতর্ক করেন যে চিন “দৃঢ় প্রতিক্রিয়া” দেখাবে যদি ব্রিটেন ওয়াশিংটনকে অনুসরণ করে নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত চাইনিজ কর্মকর্তাদের উপর অবরোধ আরোপ করে। “আমরা কখনোই একক অবরোধে বিশ্বাসি নই, আমরা বিশ্বাস করি জাতিসংঘের অবরোধ আরোপের এখতিয়ার রয়েছে”- লি জিয়াওমিং বিবিসে কে এ কথা জানান। “যদি যুক্তরাজ্য সরকার যে কোন চাইনিজ ব্যক্তির উপর অবরোধ আরোপের পর্যায় পৌছায়, চিন নিশ্চিতভাবে এর দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখাবে”। লি বলেন তিনি চান না যুক্তরাষ্ট্রের মত যুক্তরাজ্যের সাথেও “ইটের বদলে পাটকেল্টি” কূটনীতি চালু হোক।

তিনি আরো বলেন ” আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের সুরে তাল মেলানোর চেয়ে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি থাকা উচিত যেমন হুয়াওয়ের সাথে যা হয়েছে।”

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar