Miscellineous

বাড়ি তৈরির আইন বাংলাদেশ। বাউন্ডারি ওয়াল করার নিয়ম। বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম।
Photo

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাড়ি তৈরির ধাপসমূহ:

বাড়ি এমনভাবে নির্মাণ করছেন যে করিম মিয়ার বাড়ি অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে, আলো-বাতাস কিছুই ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারছে না। এমনকি করিম মিয়ার যাতায়াতের যে পথ তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিংবা বাড়ির দেয়াল-ঘেঁষে কোনো অনুমতি ছাড়া বাড়ি তৈরি করছেন রহিম মিয়া।


 এখন কী করবেন প্রতিবেশী করিম মিয়া? সহজ উত্তর, বাড়ি নির্মাণের সময় অবশ্যই প্রতিবেশী করিম মিয়ার সুখের কথা তার আগে চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভবন বা ভবনসংলগ্ন রাস্তা বা এর সঙ্গে সংযোগকারী কমপক্ষে ৩ দশমিক ৬৫ মিটার প্রশস্ত রাস্তা থাকতে হবে।

 

তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন রাস্তার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ মিটার প্রশস্ত রাস্তা থাকতে হবে। মালিকানা উল্লেখ না থাকলে রাস্তা সর্বসাধারণের রাস্তা হিসেবেই গণ্য হবে।

 

গ্রামে বাড়ি তৈরির আইন:

দুই রাস্তার সংযোগস্থলের কোণে ১ মিটার জায়গা রাস্তা সরলীকরণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কাছের কোনো রাস্তার কেন্দ্র থেকে কমপক্ষে সাড়ে ৪ মিটার অথবা রাস্তাসংলগ্ন সীমানা থেকে কমপক্ষে দেড় মিটার দূরে ভবন নির্মাণ করতে হবে।

অর্থাৎ ভবন বানাতে গিয়ে কোনোভাবেই প্রতিবেশীদের অধিকার ক্ষুণœ করা যাবে না। ইচ্ছা করলেই প্রতিবেশীর জায়গার ওপর কিংবা রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। 


বাড়ি তৈরির আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন:


ঢাকা ও চট্টগ্রামের জন্য প্রতিটি ভবনে কমপক্ষে ২৩ বর্গমিটার জায়গা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রাখতে হবে। আর বাণিজ্যিক স্থানে সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করে দেওয়া জায়গা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রাখতে হবে। 

ভবনের ছাদ এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে ওই ছাদের পানি রাস্তায় বা অন্যের জমিতে কিংবা ভবনে না যায়।ছাদ বা কার্নিশ উন্মুক্ত স্থানের ওপর আধা মিটারের অর্ধেকের বেশি বাড়ানো যাবে না। ভবনের দরজা ও জানালার ওপর হাফ মিটার প্রস্থের বেশি সানশেড নির্মাণ করা যাবে না।

ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরে কার্যকর রয়েছে মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনগুলোয় রয়েছে সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ। প্রতিবেশীর বাসার সামনে ইচ্ছা করলেই পশু জবাই করা যাবে না। অনুমোদিত স্থান ছাড়া পশু জবাই ও কাটাকাটি করা যাবে না। 

বাসার ময়লা-আবর্জনা ফেলার নিয়ম:

আপনার বাসার ময়লা-আবর্জনা ইচ্ছা করলেই যেখানে-সেখানে ফেলে রাখতে পারবেন না। ইচ্ছা করলেই এমনভাবে থুথু বা পানের পিক ফেলতে পারবেন না, যাতে প্রতিবেশীর গায়ে পড়ে কিংবা চলাচলে সমস্যা হয়। ফেলতে হবে নির্ধারিত স্থানে। 


রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে ইচ্ছা করলেই মলমূত্র ত্যাগ করা যাবে না। আপনার মন চাইলেই কোনো বিশেষ দিন উপলক্ষে প্রতিবেশীর বাসার সামনে কিংবা এলাকার রাস্তায় সংগীত, কৌতুক বা যে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। 

   
প্রকাশ্য স্থানে কাপড় ধোয়া ও গোসল করা:

রাস্তায় কিংবা কোনো প্রকাশ্য স্থানে কাপড় ধোয়া ও গোসল করা যাবে না। কোনোভাবেই প্রতিবেশীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা যাবে না। উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছর পর্যন্ত সাজা দিতে পারে। আপনি ইচ্ছা করলেই অনুমোদন না নিয়ে যখন-তখন প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে পড়তে পারবেন না। আপনার পালিত কোনো পশু-পাখি রাস্তায় ছেড়ে রাখতে পারবেন না। 


প্রতিবেশীর বাসার দালানে কোনো পোস্টার বা বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না। সমাজে বাস করতে গেলে এসব বিধিনিষেধ আপনাকে মেনে চলতেই হবে। যদি না মানেন, তাহলে কমপক্ষে ১০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে এবং এর সঙ্গে খাটা লাগতে পারে জেলেও। 

 

ক্ষতিগ্রস্থ হলে আইনের আশ্রয় নেয়া:

আইন অনুযায়ী কোনো ক্ষতিগ্রস্ত বা বিরক্তির শিকার প্রতিবেশী পুলিশের কাছে লিখিত প্রতিকার চাইতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিবেশীর অধিকার রয়েছে টর্ট আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের মামলা করারও।

কেস স্টাডি-২। আরিফ মিয়া দীর্ঘদিন একটি রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। বাড়িতে ঢোকার জন্য এটিই তার একমাত্র পথ। কিন্তু আরিফ মিয়া যে রাস্তাটি ব্যবহার করছেন তা এলাকার জমিওয়ালা জোতদার জলিল বিশ্বাসের। 

 

চলাচলের রাস্তা বন্ধ না করা:

জমিওয়ালা একদিন চলাচলের এ পথ বন্ধ করে দিলেন। এখন কী করবেন প্রতিবেশী আরিফ মিয়া? সহজ উত্তর, আইন অনুযায়ী জলিলের জায়গা হওয়া সত্ত্বেও আরিফ কিন্তু এ রাস্তায় চলাচলের সুবিধা পাবেন।


 একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনি যদি তার এ সুখাধিকার উপভোগে বাধা না দিয়ে থাকেন, তবে একটা সময় তিনি এ সুখাধিকার দাবি করতে পারবেন এবং আপনি কোনোক্রমেই তাকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। 

তামাদি আইনের ২৬ ধারায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সুখাধিকার কীভাবে শক্তপোক্তভাবে তৈরি হয়, তার নিয়ম-কানুন বলা আছে। এই ধারা অনুসারে আলো, বাতাস, রাস্তা, জলাধার, পানির ব্যবহারের ওপর জনগণের বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সুখাধিকার তৈরি হতে পারে।

 


বাড়ি তৈরির আইন বাংলাদেশ:

এ ছাড়া ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ ও ২০০৬ অনুযায়ী ভবন নির্মাণ যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভবন ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ আবাসিক বাড়ির জন্য অনুমতি নিলে ওই ভবনকে আবাসিক কাজেই ব্যবহার করতে হবে, অন্য কোনো কাজে যেমন বাণিজ্যিক বা ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।


 এ নিয়ম না মানলে প্রতিবেশীরা নিতে পারেন আইনের আশ্রয়। তারা যদি এমন কোনো ভবনের বিষয়ে অভিযোগ করেন তাহলে সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ওই ভবন ভেঙে ফেলার বা অপসারণের নির্দেশ দিতে পারবে।

 

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar