ফুটবল এবং স্বাধীকার: প্রসঙ্গ বাংলাদেশের স্বাধীনতা - Eakattor 24 Hours

Sports

ফুটবল এবং স্বাধীকার: প্রসঙ্গ বাংলাদেশের স্বাধীনতা
Photo

ফুটবল বাঙালি জীবনের অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক। তবে ফুটবল খেলার প্রতি বাঙালির ভালোবাসা যেমন তার শরীরচর্চা এবং বিনোদনের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে ,ঠিক অন্য দিকে ফুটবল খেলা বাঙালি জীবনের লড়াই এবং সাংগঠনিক চরিত্রের পরিচয় দেয়। আমরা যারা কলকাতায় ছোট থেকে বড় হয়েছি তারা জানি পাড়া থেকে শুরু করে ময়দান পর্যন্ত ফুটবল হলো বাঙালির অহংকার এবং মর্যাদার প্রতীক। বর্তমানে আজও মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের লড়াই বাঙালির অন্যতম আকর্ষণ। ওপারের উদ্বাস্তুদের এদেশে টিকে থাকার অন্যতম অস্ত্র ছিল ফুটবল।

৭ ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে যখন বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন ,সেই ভাষণ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে দলে দলে মানুষ ঘরের শেষ সম্বল টুকু নিয়ে যেমন মুক্তিসংগ্রামে নেমেছিল ,ঠিক একইভাবে একদল ফুটবলপ্রেমী ফুটবল কে প্রতীক করে হুঙ্কারের প্রতিধ্বনি জাগিয়ে তুলেছিল অত্যাচারী পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

স্বাধীনতার পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করেননি তৎকালীন সময়ে পাঞ্জাবি পশ্চিম পাকিস্তানী ফুটবল খেলোয়াড়রা বাঙালির খেলোয়াড়দের প্রতি কুমন্তব্য জুড়ে দিয়েছিল। ঢাকা ছিল পাকিস্তান ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র কিন্তু যখন দল নির্বাচন করা হতো তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য শুধু তাই নয় তাদের উপর নির্যাতন করার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হতো। বাঙ্গালীদের প্রতি এই বিরূপ আচরণ পূর্ব পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মনে এক নতুন দেশ গড়ার বাসনা গড়ে তুলেছিল।

পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জনমত গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল এই ফুটবল খেলা।

৭ ই মার্চের পর একদল ফুটবল প্রেমী তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পাড়ি দিয়েছিল কলকাতায়। কর্নওয়াল স্ট্রিটে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় বিভিন্ন জায়গা থেকে ৪০ জন, মতান্তরে ৬০ জন ফুটবল খেলোয়াড় কে নিয়ে পাকসারকাস এর একটি মাঠে প্রশিক্ষণ শুরু হয় সেখান থেকে বেছে নেওয়ার হয় ৩০ জনকে এবং পরে আর একজনকে যুক্ত করা হয় অর্থাৎ মোট ৩১ জন।

১৯৭১ সালের জুন মাসে স্বাধীন বাংলা ফুটবল নামে দলটি গঠিত হয় । যার প্রথম অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। প্রথমদিকে কয়েকজনকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কথা উল্লেখ করে মুজিবনগরে গিয়ে তাতে যোগ দিতে বলা হয় এই সময় মুজিবনগরে প্রথমে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল শংকর হাজরা সাইদুর রহমান প্যাটেল শেখ আশরাফ আলী সহ অন্যান্যরা এরপর সেখান থেকে আকাশবাণীতে( কলকাতা রেডিও) ঘোষণা করা হলো বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত খেলোয়াড়রা মুজিবনগরে রিপোর্ট করে।

১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই কৃষ্ণনগর স্টেডিয়াম নদিয়া একাদশের বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল তাদের প্রথম ম্যাচটি খেলে। ম্যাচটির ফলাফল ছিল ২-২। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রথম গোলটি করেন দলের সদস্য শাহজাহান।

এই দল মোট ১৬টি ম্যাচ খেলেছিল ,তারমধ্যে জিতেছিল ৯ টি তে, তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল এবং চারটি ম্যাচে তাদের পরাজয় ঘটেছিল এই দল মুক্তিযুদ্ধের তহবিলে ৫ লক্ষ ভারতীয় রুপি তুলে দিয়েছিল। জানা যায় এই দলকে সাহায্যের হাত যারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেতা দিলীপ কুমার এবং বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড় নবাব মনসুর আলী পাতাউদি।

নানা গোলযোগের মধ্যে দিয়ে এই ম্যাচের শুরুতে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং পতাকা উত্তোলন করা হয় জয় বাংলা স্লোগান এর মধ্যে দিয়ে। স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর কারণে বিশ্ব রাজনীতির পরিপেক্ষিতে নদীয়ার ডিসি দীপক ঘোষকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এভাবে স্বর্ণাক্ষরে তাদের অবস্থান রচিত করেছিল।

 

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar