Miscellineous

প্রসঙ্গঃ ধর্মে'র নামে অধর্ম চর্চা "বিপন্ন মনুষ্যত্ব-মানবতা"।
Photo

"ধর্মে'র নামে অধর্ম চর্চা-বিপন্ন মনুষ্যত্ব আর মানবতা" বিশ্বময় চলতি পরিস্থিতিতে-এই উক্তিটি সর্বময় অবধারিত সত্য। পৃথিবীর শুরু হইতে অদ্যবধী মানবতা বিধ্বংসী যত অপকর্ম ও অঘটন ঘটিয়াছে,তাহার মূলে ঐ"ধর্ম" নামক শব্দটি সূচনা লগ্ন হইতে ধ্বংস পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করিয়াছে।
    
 সকল অপকর্ম ও অঘটন শুরুতে দুনিয়াবী নাম মাত্র কিছু মেকী স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসাবে দেখা দিলেও,পরবর্তীতে তাহাই জাত-ধর্ম রূপে একে অপরকে ধ্বংসের নেশায় "মানবতা বিধ্বংসী ঘটনা" রূপে পরিচিতি লাভ করিয়াছে মাত্র।
       পৃথিবীতে হাতেগোনা গাণিতিক হারে সৃষ্ট যত ধর্ম প্রচার হইয়াছে তাহাও প্রারম্ভে স্থুল দৃষ্টির জনমানব কর্তৃক-ঐ "অধর্ম" আখ্যা লাভ করিয়াছে। 
    
পূর্ব হইতে অস্থিমজ্জা গত ধ্যান-ধারনা বা পূর্ব পুরুষের প্রবর্তিত 'ধর্ম' নামক রীতিনীতি সর্বদাই মহামানবগণ কে 'অধার্মিক" ও নব্য কৌশলী মর্মে নিপীড়ন করিয়াছে। 
     হত্যাযজ্ঞ,ধ্বংস সর্বোপরি মানব'ই মানবতার চরম শত্রু ও বিনাশকারী হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে কু-খ্যাত হইয়াছেন।

     সকল ধর্মই পৃথিবীতে মানব কর্তৃক প্রচারিত,প্রসারিত ও বিস্তৃতি লাভ করিয়াছে। আবার মানব কর্তৃক ধর্মনাশা তথা মানবতা বিধ্বংসী কর্মকান্ড ঘটিয়াছে। আর সকল ধর্মের মূল,চরম ও পরম লক্ষ্য হইলো "মানবতার কৃচ্ছতা সাধন করা"।
   
 কিন্তুু সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানব'ই মানবতার জাত-শত্রু হিসেবে অবতীর্ণ হইয়াছে।"মানবতার জন্যই মানব ধর্ম" ইহা এখন মাত্র শব্দসার শূন্য বুলিতে পরিনত হইয়াছে। মানবতা বিধ্বংসীকারী সর্বদাই ধর্মের নামে নিজ পক্ষে"আমি ভালো" সাফাই গাইতে গাইতে মানবতাকে ভুলুন্ঠিত করিতেছেন।
     
 অপরপক্ষে মানবতার জয়োগানকারী ধর্ম নামক বলয়ে পিষ্ট হইয়া আত্ম চিৎকার করিতেছে তাহা মানবতার দেয়াল ভেদ করিয়া মানবতা লাভে অক্ষম। ইহা প্রতিনিয়ত'ই আমাদের দৃষ্টিগোচর হইতেছে। "একই মানব একই মানবতার অনুসারি হওয়া সত্ত্বেও নিজ নিজ"ইগো"বা প্রবৃত্তির  বশে বড়ত্ব বা অহংকারের অন্ধকূপে নিমজ্জিত হইয়াছেন। 
    
 ধর্মের নামেই পৃথিবীতে সদা অধর্ম চর্চা হইয়াছে।আর সেই অধর্ম চর্চারোধে মানব'ই মহামানব রূপে সেই অধর্ম চর্চাকারীদের নিকট মানবতার অমিয় বাণী সু-সংবাদ রূপে আনয়ন করিয়াছে।অধার্মিকের দৃষ্টিতে তাহারই কৃত ধর্ম-অধর্ম রূপে পরিচিতি লাভ করিয়াছে। মানব হইয়াছে মানবেই শ্রেষ্ঠ।

      অধর্ম কখনোই অধর্মের লেবাসে নয়- বরং ধর্মরূপে ধর্ম লেবাসে মানব তথা মানবতাকে ধোঁকা দিয়াছে। আর ধর্ম সূচনা হইতেই ধর্ম রূপে'ই মানব তথা মানবতার নিকট আত্মপ্রকাশ করিয়াছে। পৃথিবীতে সৃষ্ট হাতে গোনা ধর্মগুলো;তন্মধ্যে যে কোন একটির অনুসারি হউকনা কেন,মানব বা মানবতাকে সর্বাগ্রে সর্বোচ্চ শিখরে স্থান দানকারী মানব'ই মহামানব রূপে জগতে খ্যাত ও মান্যবর হইয়া আছেন।

    ঐ স্মরনীয় বরণীয় ব্যাক্তিত্বগণ কখনোই একটি ধর্মকে আরেকটির উপর কষাঘাত বা খন্ডে খন্ডে দলে দলে বিভক্ত করেন নাই। এমন কি জগতের ফায়দা হাসিল,বড়ত্ব জাহির বা ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করেন নাই। মহামানবগণ কখনোই পৃথিবীর সৃষ্ট অন্য কোন ধর্মের প্রচারক বা তাঁদের প্রতি অবতীর্ণ ধর্ম কিতাবেরও কোন রূপ বিরোধীতা করেন নাই। তাঁহারা শুধু "মানবধর্ম" বা মানবতার স্থান সর্বাগ্রে সর্বোচ্চে স্থান দিয়াছেন।

     ধর্ম প্রচারকারী মহামানবগণ যাহা করিয়াছেন তাহা শুধু এই যে,"ধর্মের নামে অধর্ম চর্চার রোধকল্পে মানবকে মানবধর্মে বা সত্য শান্তির ধর্মে আহ্বান করিয়াছে"। মানুষের সুখে সুখী মানুষ-মানুষের দুঃখে দুখী-এই মরমী মানবতাবাদ সত্যান্বেষণে ছিলো তাঁহাদের আহ্বান। 

     জাতি,বর্ণ,গোত্র তথা জাত-ভেদ প্রথার বিলুপ্তি সাধন করিয়া "সকল মানুষ এক'ই জাতি"-এই অমোঘ সত্য প্রতিষ্ঠা'য় ছিলো ধর্ম প্রচারকারীদের মূল লক্ষ্য।

     পৃথিবীর পূর্বাপর ধর্মীয় ইতিহাস পর্যালোচনায় ইহাই প্রতীয়মান হয় যে,পূর্বের কোন ধর্মকে'ই বাতিল বা রদ রহিত করিতে কোন মহামানব'ই পৃথিবীতে আসেন নাই। ঐশ্বরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মহামানবগণ অসত্য বা অধর্মের উপর সত্য ধর্মের নিশানা উড়াইয়াছেন ও সফলকাম হইয়াছেন। 

      একই ধর্মকে খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করিয়া দলে দলে নিজ মনগড়া মতবাদ "মাই ইট ইজ রাইট"বা আমি আর আমার ধর্ম'ই ঠিক,বাকিটা সব ভ্রান্ত-এমন মতবাদ হইতে ধর্মের বাড়াবাড়ি সৃষ্টি। আর তা হইতে মনুষ্যত্ব আর মানবতা বিপন্ন বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হইতেছে।

      এক'ই মনুষ্যত্ব আর মানবতার একই মানবের এক'ই "মানবধর্ম"-চিরন্তন এই শিক্ষা হইতে বিচ্যুত হইয়া বিভক্তির মাধ্যমে ধর্মের মুখোশধারী'দের অধর্ম চর্চা জাগতিক ফায়দা হাসিল করিতেছে মাত্র। 
    পক্ষান্তরে মানবের "মানবধর্ম"বা মানবতা হইয়াছে পদ দলিত-যাহা সত্য ধর্ম বা সত্য শান্তির সন্ধান দিতে পৃথিবীতে বার বার ব্যার্থ হইয়াছে। বোধ করি এমন মর্মার্থ অনুধাবন করিয়াই বাউল ফকির লালন শাহ্ মরমী সুরে গেয়েছেনঃ
        
"এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে-
         যে দিন হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান
                     জাতি-গোত্র না রবে---
      তাই আসুন,আমরা জাতি,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র  নির্বিশেষে সকলেই এক'ই মানববৃন্তে ফোঁটা এক'টি ফুল হইয়া "মানবধর্ম"বা মানবতার খোশবু ছড়াইয়া দেই। মানবতার জয়োগান গাহিতে থাকি--

     (সূফী এমদাদ সাঁই- ২৯/০২/২০২০)

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar