Politics

একুশে আগস্ট
Photo

২১শে আগস্ট ট্রাজেডির দুঃসহ রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও বাংলার মানুষকে তাড়া করে  ফিরে। ৭৫’র ১৫ই আগস্ট এই বাংলার মাটিতে যে ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে সমূলে বিনাশ করতে ইতিহাসের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করেছিল সেই চক্রের দোসররা  আবারও  ২১শে আগস্ট ২০০৪  ভাগ্যক্রমে বেঁচে থাকা বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যার একজন বাংলার কোটি কোটি  মানুষের নয়নের মনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যার জন্য বঙ্গবন্ধু এভ্যিনিউ-এ আওয়ামী লীগের জনসভায় চালায় স্মরণাতীত কালের ভয়াবহ নারকীয় গ্রেনেড হামলা। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, জননেত্রীকে হত্যার জন্য তাঁর বুলেট প্রুফ গাড়িতেও পরিকল্পিতভাবে চালানো হয় একের পর এক গুলি। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমান ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী  মাহবুব সহ ২৪ জন বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নিহত হয়েছেন সেদিন। সেদিনের ঘটনায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ আহত হয়েছেন কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী যাদের অনেককেই এ নারকীয় হামলার দুঃসহ স্মৃতি বুকে নিয়ে পঙ্গু হয়ে কাটাতে হচ্ছে বাকীটা জীবন। ২১শে আগস্ট যেন আর এক ১৫ই আগস্ট  ট্রাজেডিরই  পুনরাবৃত্তি । মাহবুব নিজের বুকের রক্ত দিয়ে ও আওয়ামী লীগের  নেতারা  নিজেদের জীবনকে মৃত্যুর সাথে বাজী রেখে মানববর্ম তৈরী করে নেত্রীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই  শেখ হাসিনা এ যাত্রায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারকে সমূলে বিনাশ করার জন্য  হামলা চালানো হয়েছিল আর ২১শে আগস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হত্যার জন্য হামলা চালানো হয়। ১৫ই আগস্ট ষড়যন্ত্রকারীরা সম্পূর্ণ সফল হলেও গত ২১শে আগস্ট খুনীরা আংশিক সফল হয়েছে। ২১শে আগস্ট সফল হলে হয়ত ৭৫’র পর যে রকম অন্ধকার বাংলাদেশকে  গ্রাস করেছিল তারও চেয়ে হয়ত আরও গভীর অন্ধকারে আমরা নিমজ্জিত হতাম, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে আর কিছুই থাকতো না, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকার হয়তো আজও দাম্ভিকতার সাথে দেশ শাসন করতো, চলতো বোমা বিস্ফোরণের উৎসব আর হত্যার রাজনীতি। শুধু তাই নয় হয়তো এ অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জানি না আমাদেরকে আরও  কত বছর অপেক্ষা করতে হতো, রাজপথে ঢেলে দিতে হতো আরও কত বুকের তাজা রক্ত। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসা¤প্রদায়িকতার প্রদীপ  জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি ২১শে আগস্ট নিভে যেত তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ  বনপোড়া হরিণীর মত আর্তনাদ করে উঠতো, রক্ত স্রোতধারায় ভেসে যেত বাংলাদেশ। আমরা ভাগ্যবান যে, আমাদের মধ্যে এখনও বেঁচে আছেন বাংলার কোটি মানুষের সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনা ।

বাংলাদেশে বোমা, গ্রেনেড হামলা ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় নতুন কোনো সংবাদ ছিল না, বাংলাদেশের শান্তি প্রিয় মানুষ কেবল আশঙ্কায় থাকত  কখন কোথায়  রক্তের স্রোতে ভেসে যায় বাংলার সবুজ মাটি। আমরা আশঙ্কায় থাকতাম বোমা, গ্রেনেডের  আঘাতে আরও কত মানুষ লাশ হবে, বাংলাদেশের বুক থেকে আরও কত রক্ত ক্ষরণ হবে। এসময়  ধ্বংসাতœক বোমা হামলার বিস্তার ঘটেছিল  রমনার বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে গীর্জায়, মাজারে, সিনেমা হলে, রাজনৈতিক সমাবেশে এবং আদালতের ভেতরে। এরই ধারাবাহিকতায়  ঘাতকরা  ২১ আগস্ট ২০০৪  বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে জনসমাবেশ চলাকালীন সভা মঞ্চে সুপরিকল্পিত ভাবে নারকীয় বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালায়।  জোট  সরকারের আমলে বোমা হামলাকারীরা যে কত সুসংগঠিত ও শক্তিধর তার সর্বশেষ  প্রমাণ মেলে ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট একযোগে দেশব্যাপী নজিরবিহীন বোমা বিস্ফোরণ। এরপর দেশবাসী দেখেছে আদালতের ভেতরে ও বাইরে  কিভাবে  নৃশংস  কায়দায় বিচারক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ততো হয়নি, বরং খুনীদেরকে বাঁচানোর জন্য ছিল রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা।  যখনই  কোন স্থানে বোমা হামলা সংগঠিত হয়েছে তখনই  প্রশাসন কর্তৃক প্রকৃত সস্ত্রাসীদেরকে আড়াল করতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে হয়রানি ও নির্যাতন করাসহ  কোন কোন ঘটনাকে  আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। যখন বাংলা ভাইরা  দেশে জেএমবি’র নামে  একের পর এক নৃশংস বোমা হামলা পরিচালনা করেছিল তখন জোট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী জামায়াতের আমীর ও ৭১’র  চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন ‘বাংলা ভাই মিডিয়ার  সৃষ্টি’। ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপি’র ভেতরে স্বাধীনতা বিরোধী , সা¤প্রদায়িক  ও মৌলবাদী শক্তির ধারাটি এতই প্রবল যে, দেশে উগ্রবাদী মৌলবাদী  সংগঠনগুলোকে জোট সরকারের আমলে লালন করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘায়েল করতে। জোট সরকারের আমলে তাদের ছত্রছায়ায় ধর্মান্ধ সা¤প্রদায়িক শক্তি ও উগ্র মৌলবাদী ইসলামী  জঙ্গী সংগঠনগুলো  দেশে  নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী  প্রগতিশীল লেখক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনকে নির্মূল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালিয়েছে। জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে  সংগঠিত বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা তৈরীর পিছনে কয়েকটি জঙ্গী সংগঠনের হাত রয়েছে  এ কথা বার বার বলা হলেও সুষ্ঠু  তদন্তের মাধ্যমে কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়া  হয়নি, বরং জঙ্গীবাদকে লালন পালন করা হয়েছে।

২১শে আগস্টের মত নারকীয় গ্রেনেড হামলায় যখন দেশের মানুষ ও বিশ্ববিবেক হতবাক, নিন্দা ও প্রতিবাদ যখন দেশে ও দেশের বাইরে , তখনও প্রকৃত খুনীদের আড়াল করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বেছে নেওয়া হয় নগ্ন কৌশল ও জঘন্য ষড়যন্ত্র। জোট সরকারের বদৌলতে জীবনে গ্রেনেড দেখেনি,  থানায় কোনো মামলা নেই’ সেই নিরীহ জজ মিয়া রাতারাতি বনে যায় ‘তারকা সন্ত্রাসী’। ২০০৫ সালে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সরকারের জজ মিয়া নাটক সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনেকটাই পরিষ্কার করে  দেয় ২১শে আগস্ট ট্রাজেডির তদন্ত নিয়ে সরকারের নাটকের কথা। দেশি-বিদেশি চাপে তড়িঘড়ি করে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ভার কারও উপর চাপানোর জন্য জজ মিয়াকে দিয়ে বলানো হয় কল্পিত সব কাহিনী। পত্রিকার খবর  বেরোয় ‘পুলিশের উপস্থিতিতে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে জজ মিয়ার স্বীকারোক্তি, নির্দেশ ছিল আওয়ামী লীগের মঞ্চে যেন গ্রেনেড না পড়ে’। এভাবেই তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকার প্রকৃত খুনীদের ও তাদের গডফাদারদের রক্ষা করতে ২১শে আগস্ট  ঘটনার দায়ভার আওয়ামী লীগের উপর চাপানোর একটা নীল নকশা তৈরী করেছিল।  আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সে দলের নেত্রী কোটি মানুষের আশা আকাঙ্খা ও সংগ্রামের প্রতীক শেখ হাসিনাসহ নিজেদেরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করবে তাও আবার জজ মিয়ার মতো আনাড়ী ও অখ্যাত সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা চুক্তির বিনিময়ে, এর চেয়ে চমৎকার আষাঢ়ে গল্প আর কি হতে পারে? পরে দেশবাসীর কাছে সেই ভয়াবহ খবর উম্মোচন হলো কিভাবে সিআইডি’র লোকেরা ১৬৪ ধারায় ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার স্বীকোরোক্তি জজ মিয়ার কাছ থেকে আদায়ের পর নোয়াখালীর সেনবাগে জজ মিয়ার পরিবারকে প্রতিমাসে ২৫০০ টাকা দিয়ে আসতো। এ খবরটি পড়ে আমার মতো অনেকেই  স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গত ১১ জুন ২০০৮ তারিখে সিআইডি’র সিনিয়র এস.পি ফজলুল কবীর ২১শে আগস্ট ট্রাজেডির আসল ঘটনার জাল ভেদ করে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায়  পৃথক ২ টি চার্জশীট ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে জমা দিলে অবশেষে আষাঢ়ে গল্প ও জজ মিয়া নাটকের অবসান  ঘটে। এই  চার্জশীট ২টি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর মাননীয় বিচারক গ্রহণ করে অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন এবং তাঁর আদালতেই মামলার শুনানী শুরু হয় । উভয়  চার্জশীটে ৪ দলীয় জোট সরকারের সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী  আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও মুফতী হান্নান সহ ২২ জন হুজী নেতাকর্মীকে ২১শে আগষ্ট ট্রাজেডির জন্য দায়ী করে আসামী করা হয়। এদের মধ্যে ১৪ জন আটক  এবং বাকী ৮ জন পলাতক। চার্জশীটে বলা হয়েছে যে, বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অভিযুক্তরা গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। চার্জশীট জমা দেওয়ার পর  চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বিগত জোট সরকারের ছত্রছায়ায় ঘটনার হোতাদের বাঁচাতে কিভাবে সি.আই.ডি’র  তিন জন এএসপি আব্দুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান ও রুহুল আমিন জজ মিয়া নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন। এ চার্জশীট জমা দেওয়ার  মধ্য দিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তা যে কত লোভী , নির্মম ও অমানবিক  তারও একটি ভয়ঙ্কর  চিত্র  ফুটে উঠে । চার্জশীট জমা দেবার পর পত্রিকার খবর থেকে এটাও জানা যায় যে, আগস্ট ট্রাজেডির  হোতা হিসেবে জজ মিয়াদের গ্রেফতার করার জন্য জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাবর ঘোষিত ১ কোটি টাকাও ভাগ করে নিয়েছিল জজ মিয়া নাটকের  রচয়িতা পুলিশের ঐ সাবেক তিন কর্মকর্তা। জজ মিয়াকে দিয়ে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপরাধে এবং তদন্তে গাফিলাতির অভিযোগে পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশীটে এই তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে ২১শে আগস্ট ট্রাজেডির  মামলায় আসামী করা হয়। তবে সেসময় আমার মতো অনেককে একটা জিনিস ভেবে অবাক হতে হয়েছিল যে, এ পুলিশ কর্মকর্তাদের খুঁটির জোর যে স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয় তার দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী  বাবরকে এবং গ্রেনেড হামলার মদদদাতাদের কেন সেই চার্জশিটে অন্তর্ভূক্ত করা হলো না ? তাহলে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও ২১শে আগস্ট ট্রাজেডির নেপথ্যের পরাক্রমশালী কুচক্রী মহল ও মূল হোতারা অদৃশ্যেই ছিলেন? ২১শে আগস্ট ট্রাজেডির  পর এটা দিবালোকের মত পরিষ্কার যে, ঘটনার আলামত ও ঘটনা এটাই  প্রমাণ করে যে, সরকারের ছত্রছায়ায় সেদিন জননেত্রী শেখ  হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হত্যা করার জন্যই এ নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। তাই  ২১শে আগস্টের  মতো এতবড় বীভৎস ঘটনা বিএনপি-জামায়াতের নীতি নির্ধারকরা জানতো না এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাই  তদন্তে গাফিলাতিসহ  যারা  ২১শে আগস্ট-এর নারকীয় হত্যাযজ্ঞে ইন্ধন যুগিয়েছে সেই গডফাদারদের বিচারের দাবী ছিল এ দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবী। এরই প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুলভোটে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মাননীয় আদালত ২১শে আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকা-ের অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি সরকার এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করে পুলিশের বিশেষ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের উপর। পুনঃতদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩রা জুলাই  আরও ৩০ জন ব্যক্তিকে  অভিযুক্ত করে আর একটি সম্পুরক চার্জশীট আদালতে জমা দেওয়া হয়। এই চার্জশীটে অভিযুক্ত হিসেবে তালিকায় অন্তভর্ূৃক্ত হন বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক রহামান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ৪ দলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ । ফলে এই মামলায় পূর্বের চার্জশীটভুক্ত ২২  জন আসমীসহ মোট আসামীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জন। আসামীেেদর মধ্যে যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যা চেষ্টা মামলায় হুজি নেতা আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মুত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাদের নাম বাদ পড়ে যায়। এরপর ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত  মামলা দুটির বিচার কাজ  ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতে শেষ হয় । এরপর পুরো জাতি অধীর আগ্রহে এই মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলো এবং জাতি প্রত্যাশা করেছিলো এ মামলায় যেন ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়। অবশেষে মামলা দায়েরের ১৪ বছর পর গত  ১০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে  ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন রায় দেন যা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত । রায়ে ৪ দলীয় জাট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (আটককৃত) , সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী  আব্দুস সালাম পিন্টু (আটককৃত) ও সেনাবাহিনীর উর্দ্ধতন কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনকে ফাঁসি এবং বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক রহামান (পলাতক), খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী (পলাতক) ও সাবেক সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক)সহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হয়। এছাড়াও মামলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃত্বকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত থাকায় ১১ জন সরকারী কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। বিচারক রায়ে বলেন, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতে এই আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের ‘ডেথ রেফারেন্স’ এবং আসামী পক্ষের আপীলের পর মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালেতে শুনানির অপেক্ষায়।

২১শে আগস্ট ট্রাজেডি ১৫ই আগস্ট ট্রাজেডির মতো বাঙালির জন্য আর একটি শোক উপাখ্যান। ১৫ই আগস্ট  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে খুনীদের বিচার কাযক্রম সম্পন্ন হওয়ায় ও কয়েকজন খুনীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় জাতি হিসেবে হিসেবে যেমন আমাদের জাতীয় দায়মুক্তি ঘটেছে, তেমনি আমরা গ্লানিমুক্ত হয়েছি। ঠিক তেমনি আর একবার গ্লানিমুক্ত হতে ২১শে আগস্ট ট্রাজেডির হোতা সহ সকল ঘাতকদের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর দেখার অপেক্ষায় গোটা জাতি। এজন্য তারেক জিয়াসহ একুশে আগস্ট মামলার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি যারা বিদেশে পলাতক রয়েছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাসহ সকল ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে,  জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে হলে , বাংলাদেশ থেকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চিরদিনের মতো উৎপাটন করতে হলে,  দেশকে জঙ্গি ও সা¤প্রদায়িকতা মুক্ত করতে হলে এবং বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আলোকিত চেতনায় পরিচালিত করতে হলে ১৫ই আগস্ট ট্রাজেডির মতো অবশ্যই বাংলার মাটিতে  ২১ আগস্ট ট্রাজেডির বিচার কার্যকর হতেই হবে ।

 

 

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar