Politics

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কর্মপন্থা ঠিক করতে যাচ্ছে বিএনপি।
Photo

বিশেষ প্রতিনিধি :

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কর্মপন্থা ঠিক করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ১০ থেকে ১২ দফার একটি রূপরেখার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেটি চূড়ান্ত করতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পাশাপাশি তাঁদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না, আর না নিলে আন্দোলনের কৌশল কী হবে, তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকেরা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এ ছাড়া দুই রাজনৈতিক জোটের (২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, সে বিষয়টিও এখনো ঠিক হয়নি।বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে টানা তিন দিনের বৈঠকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সবাই বর্তমান সরকার এবং বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিন দিনের বৈঠকে মোট ২৪৯ জন নেতা অংশ নেন, বক্তব্য দেন ১১২ জন। বৈঠকের সময় ছিল সাড়ে ১৬ ঘণ্টা। সবার বক্তব্যের মূল বিষয় হচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটে অংশ নিলে ফলাফল ২০১৪ সাল ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের মতোই হবে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যেতে হলে বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় (দলীয় সরকারের অধীনে নয়) পরিবর্তন আনতে হবে। আর সেটি আদায় করার জন্য আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প তাঁরা দেখছেন না।মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মপন্থা ঠিক করতেই দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মূল বিএনপির সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দূরত্বের বিষয়টিও বৈঠকে তোলেন কোনো কোনো নেতা। প্রথম দিনের বৈঠকে এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান। তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট চন্দ্রিমা উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে পুলিশের আক্রমণের মুখে তিনি ছাত্রদলের এক নেতাকে ফোন করে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। জবাবে ওই ছাত্রদল নেতা বলেছেন, তাঁরা কেন বিএনপির দায়িত্ব নেবেন।তিন দিনের এ বৈঠকে একাধিক নেতা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দলের নীতিনির্ধারকদের পিছিয়ে থাকা নিয়েও কথা বলেন। এ ছাড়া বৈঠকে ২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ও গত সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়েও কথা বলেছেন কয়েকজন নেতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন নেতা জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করতে মত দেন। এর মধ্যে তিনজন নেতা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরামর্শ দেন। দলীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কর্মপন্থা চূড়ান্ত করতে শিগগিরই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং পেশাজীবীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবে বিএনপি। যদিও তিন দিনের বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিএনপি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে নেতাদের কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের বলা হয়েছে, যা বলার দলের মহাসচিব বলবেন।

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar