Politics

চিকিৎসা না দিলে শুধু জরিমানা নয়, হাসপাতাল সিলগালা করা হবে’
Photo

হাসপাতাল-ক্লিনিকে সাধারণ রোগী ভর্তি না করা ও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় মর্মাহত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, এভাবে একের পর এক বিনা চিকিৎসায় রোগী মারা যেতে পারে না। রোগীকে চিকিৎসাবঞ্চিত করে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একাধিক ঘটনা ঘটে গেছে। আর একটাও এমন অমানবিক ঘটনা ঘটতে দেয়া যায় না। যদি কোথাও চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শুধু জরিমানাই নয়, ওই হাসপাতাল বা ক্লিনিক সিলগালা করা হবে। এ ব্যাপারে বিভাগ, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

অপরদিকে একের পর এক রোগী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের আয়োজনে সিলেটের সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্বশীল পেশাজীবী সংগঠনের জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল শনিবার। সভায় সিলেটের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক, বিএমএ, আইনজীবী সমিতি, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ-হাসপাতাল, রেড ক্রিসেন্ট, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েবের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, এমন কঠিন সময়ে মানবিক মূল্যবোধকে সামনে এগিয়ে ধরে একটা সমন্বিত প্লাটফর্ম করার জরুরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে সাধারণ রোগী ও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। তা না হলে এই কঠিন সময়ে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়। এ জন্য ৫০ শয্যার অধিক হাসপাতাল বা ক্লিনিককে সাধারণ ও করোনা উভয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটা বাস্তবায়ন হলে এমন সমস্যা আর থাকবে না। এ ব্যাপারে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ও নির্দেশনা রয়েছে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগেরও জরুরি সভা করার কথা ছিল। কিন্তু দলের ত্যাগী কর্মী মঞ্জু মিয়া মারা যাওয়ায় সভা হয়নি। শিগগির সভা হবে এবং মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে আমাদের আরও মানবিক হতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন খোকন (৫৫) ৪টি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মারা যান। তাকে চিকিৎসাসেবা দিতে খোকনের পুত্র-কন্যারা একাধিক হাসপাতাল-ক্লিনিকের দায়িত্বশীলদের হাতে-পায়ে ধরলেও মন গলেনি কারো। এর আগে ৩১ মে টানা ৩ ঘণ্টা সিলেটের ছয়টি হাসপাতাল ঘুরে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান মনোয়ারা বেগম (৬৩) নামে এক রোগী। তিনি সিলেট নগরীর কাজিটুলার মোগলীটুলা এলাকার (বাসা এ/৫) লেচু মিয়ার স্ত্রী। একই দিন স্ট্রোক করা ৭০ বছরের এক মহিলা রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলে বিভাগীয় নগরী সিলেট ঘুরলেও চিকিৎসা না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান।

Search

Follow us

Read our latest news on any of these social networks!


Get latest news delivered daily!

We will send you breaking news right to your inbox

About Author

Like Us On Facebook

Calendar